আপনার কম্পিউটার বারবার হ্যাং হচ্ছে? খুঁজে বেড় করুণ কেন!


কম্পিউটার বারবার হ্যাং

সবসময়ের মতো আজকেও কম্পিউটারের সামনে বসলেন, কম্পিউটার অন করলেন, কিন্তু কম্পিউটার অন হতে না হতেই আবার রিস্টার্ট নিয়ে নিলো। অথবা বারবার প্রোগ্রাম ক্রাশ করছে না হলে হ্যাং হয়ে যাচ্ছে, কখনো কখনো নীল স্ক্রীন শো করে আজব আজব সব এরর ম্যাসেজ দেখিয়ে কম্পিউটার রিস্টার্ট নিয়ে নিচ্ছে। এসব ব্যাপার আপনার সাথে ঘটা তো দুরের কথা, জাস্ট চিন্তা করতে ভয়ানক দুঃস্বপ্ন ফিল হচ্ছে তাই না? ব্যাট উপরের বিষয় গুলো মটেও কিন্তু কোন কল্পনা নয়, যেকোনো সময় আপনার পিসি’র সাথেও এমনটা ঘটতে পারে। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন, কেন এমন হচ্ছে? কেন কম্পিউটার বারবার হ্যাং হচ্ছে? অবশ্যই এই অসুবিধা গুলো ফিক্স করার জন্য আপনার জানতে হবে, ঠিক কোথায় গণ্ডগোল রয়েছে।

এই আর্টিকেলে আমরা এই বিষয় গুলো খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করবো, কেন আপনার কম্পিউটার বারবার হ্যাং হয় বা ক্রাশ হয়ে যায়, বা অটো রিস্টার্ট নিয়ে নেয়!

কম্পিউটার হ্যাং প্রবলেম

নানান কারণে আপনার কম্পিউটার হ্যাং বা ফ্রিজ হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় হার্ডওয়্যার জনিত কারণে আবার অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইজ ড্রাইভার এর জন্যও কম্পিউটার ফ্রিজ হয়ে যেতে পারে। আমি একটি আলাদা আর্টিকেলে আলোচনা করেছিলাম, কিভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের সমস্যা নাকি সফটওয়্যারের সমস্যা —এই আর্টিকেলটি পড়ে নেওয়াটা প্রথমে ভালো হবে। বেশিরভাগ অজানা প্রবলেমের ক্ষেত্রে আমাদের কোনই আইডিয়া থাকে না, ঠিক কি করতে হবে? যদি প্রবলেমের কারণ না জানা থাকে, সে যতোবড়ই কম্পিউটার গীক হোক না কেন, কম্পিউটার ফিক্স করা তার জন্য মুশকিলের টাস্কে পরিনত হতে পারে।

কম্পিউটার হ্যাং প্রবলেম

বাকি আর্টিকেলে আমি কিছু ইউটিলিটি নিয়ে আলোচনা করবো, যেগুলো আপনার কোথায় প্রবলেম হয়েছে, বা কি ধরণের এরর ম্যাসেজ তৈরি করছে আপনার সিস্টেম, সেগুলো জানতে সুবিধা হবে আপনার। অন্তত এরর ম্যাসেজ আপনার কাছে থাকলে আপনি গুগল করে সমস্যার হাল খুঁজতে পারবেন। তবে কিছু কথা বলে নিতে চাই, যদি আপনার কম্পিউটার হঠাৎ করে ক্রাশ করে বা হ্যাং হয়ে যায়, সেটা একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার, কেনোনা কোন সিস্টেমই পারফেক্ট হয়না। হতে পারে আপনার যেকোনো ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যার আপনার সিস্টেমকে হ্যাং করছে বা ক্রাশ করছে। আর যদি আপনার সিস্টেম প্রতিনিয়তই ক্রাশ করে বা হ্যাং করে, তো অবশ্যই সেটার সাথে সমস্যা রয়েছে, এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই প্রবলেম খুঁজে পেতে হবে এবং সেটা ফিক্স করার চেষ্টা করতে হবে।

রিলাইবিলিটি মনিটর

রিলাইবিলিটি মনিটর আপনার উইন্ডোজ কম্পিউটারের ডিফল্ট একটি টুল, যেটা দ্রুত এবং অত্যন্ত সাধারণ একটি ইন্টারফেস প্রদান করে। এই টুলটি উইন্ডোজ ভিস্তার সাথে প্রথম এসেছিলো এবং বর্তমান মডার্ন উইন্ডোজ গুলোতেও এটি রয়েছে। জাস্ট সার্চ থেকে “reliability,” টাইপ করলেই টুলটি চলে আসবে।

এই টুলটি আপনাকে প্রত্যেকদিনে রিপোর্ট গুলো দেখাতে সাহায্য করে। কোন সফটওয়্যার কিভাবে ক্রাশ করেছিলো, উইন্ডোজ কেন আচমকা রিস্টার্ট নিয়ে নিয়েছিলো, ইত্যাদি প্রবলেম গুলোর সম্পূর্ণ রিপোর্ট এখানে পেয়ে যাবেন। শুধু ডেইলি রিপোর্ট নয়, টুলটিতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত রিপোর্ট গুলো পেয়ে যাবেন। কোন সফটওয়্যার কখন সমস্যা করেছিলো, সেই অনুসারে একটি গ্রাফে লাল ক্রস উঠে থাকে। ক্রস গুলোতে সিলেক্ট করলে নিচে এর এরর হওয়ার কারণ গুলো প্রদর্শিত করে।

রিলাইবিলিটি মনিটর

আপনি এখান থেকে সহজেই বুঝতে পারবেন, ঠিক কম্পিউটারের কোন অংশের জন্য হ্যাং বা রিস্টার্ট প্রবলেম ঘটেছিলো। আবার আপনি চাইলে নিচের “Check for solutions to all problems” লিঙ্ক থেকে সলিউসন খুঁজতে পারেন, এখানে উইন্ডোজ নিজে থেকেই প্রবলেম সল্ভ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু সেটা যদি সম্ভব না হয়, তো বেস্ট হবে জাস্ট হার্ডওয়্যার ড্রাইভারটিকে আপডেট করে নেওয়া। আপনার কম্পিউটারের সাথে যে ড্রাইভার ডিভিডি দিয়েছিল, সেটার উপর যুগের পর যুগ ধরে নির্ভরশীল হয়ে থাকবেন না। প্রস্তুতকারি কোম্পানি ওয়েবসাইট ভিজিট করুণ, চেক করে দেখুন অবশ্যই ড্রাইভার আপডেট এসেছে, ডাউনলোড করে জাস্ট ইন্সটল করে নিন। এই রিলাইবিলিটি মনিটর হয়তো আপনার সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, কিন্তু অন্তত আপনি এটা তো জানলেন, কোথায় সমস্যা।

যদি গ্রাফিক্স রিলেটেড সমস্যা শো করে, তো গ্রাফিক্স কার্ড ড্রাইভার আপডেট করে নিন, যদি হার্ড ডিস্ক থেকে সমস্যা করে তো হার্ড ড্রাইভ ড্রাইভার আপডেট করে নিন। অথবা কি করবেন, না বুঝতে পারলে এরর ম্যাসেজ গুলো সম্পূর্ণ লিখে গুগল করুণ। বিশ্বাস করুণ, অনেক বড় বড় কম্পিউটার গীক, সমস্যা গুগল করেই সমাধান করার চেষ্টা করে, অধিকাংশ সময় তাদের কোন আইডিয়াই থাকে না, কি সমস্যা হয়েছিলো।

ব্লু স্ক্রীন অফ ডেথ

আজকাল উইন্ডোজ কম্পিউটারে এই সমস্যা একেবারেই কমন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম্পিউটার অন করতে না করতেই কিংবা দুই একটা সফটওয়্যার রান করতেই বা যেকোনো সময় হঠাৎ করে সম্পূর্ণ স্ক্রীন ব্লু হয়ে যায় এবং একেক সময় একেক এরর ম্যাসেজ শো করিয়ে পিসি রিস্টার্ট নিয়ে নেয়। বেশিরভাগ সময়ই পুরাতন আর ত্রুটিপূর্ণ ড্রাইভারের জন্য এই সমস্যা হয়ে থাকে। তবে বিশেষ করে কেন এই হচ্ছে সেটা বোঝার জন্য এরর ম্যাসেজ দেখা দরকারি। যখন উইন্ডোজ কম্পিউটারে ব্লু-স্ক্রীন এরর প্রদর্শিত করে একটি ড্যাম্ব মেমোরি ফাইল জমা করে। আর অনেক সময় এই ফাইলের মধ্যে উপকারি তথ্য থাকতে পারে।

ব্লু স্ক্রীন অফ ডেথ

BlueScreenView নামের একটি ফ্রী ইউটিলিটি সফটওয়্যার এই সেভ হয়ে থাকা ড্যাম্ব ফাইলের লিস্ট গুলো প্রদর্শিত করতে সাহায্য করে। সাথে আপনি যেকোনো ড্যাম্ব ফাইলে ক্লিক করে এর মধ্যের তথ্য গুলো জানতে পারবেন। প্রত্যেকবার ব্লু-স্ক্রীন এরর ঘটার সময় এক একটি এরর ম্যাসেজ শো করানো হয়। এই ড্যাম্ব ফাইল গুলোতে হুবহু সেই ম্যাসেজ গুলো দেখতে পারবেন। এবার এরর ম্যাসেজ গুলো লিখে গুগল করে দেখুন, দেখবেন অনেক সমাধান খুঁজে পেয়ে যাবেন। সাথে আপনি বুঝতে পারবেন, কোন ড্রাইভারের সমস্যা, গ্রাফিক্স কার্ডের সমস্যা, মেমোরির সমস্যা, নাকি হার্ড ড্রাইভের সমস্যা।

সত্যি কথা বলতে প্রত্যেকটি সমস্যার জন্য সমাধান লিখে আর্টিকেল তৈরি করা সম্ভব নয়। একই প্রকারের সমস্যার পেছনে আলাদা আলদা কারণ থাকতে পারে। যদি সঠিক এরর হওয়ার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, তবে প্রবলেম ফিক্স করতে অনেক সুবিধা হয়ে যায়।

আবার এমনটাও না, যেকোনো প্রবলেম ব্যাস অনলাইন করলেই সমাধান হয়ে যাবে, হতে পারে আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার প্রবলেম রয়েছে আর যেটা শুধু মাত্র ঐ হার্ডওয়্যার রিপ্লেস করার মাধ্যমেই হাল হতে পারে। যদি আপডেটেড ড্রাইভার আর লেটেস্ট ভার্সন উইন্ডোজ ব্যবহার করার পরেও আপনার সিস্টেম ফ্রিজ হয়ে যায় তো বুঝে নেবেন হার্ডওয়্যারে গণ্ডগোল রয়েছে। হতে পারে সিস্টেম পুরাতন হয়ে গেছে, নতুন হার্ডওয়্যারে আপগ্রেড করতে হবে, বুঝতে পাড়ছেন না কোনটি আপগ্রেড করবেন? — এই আর্টিকেলটি দেখুন!

চলুন আপনার সমস্যাটি উল্লেখ্য করে নিচে কমেন্ট করুণ, দেখা যাক সমাধান খুঁজে দিতে পারি কিনা। আর অনেকের ব্লু স্ক্রীন অফ ডেথ সমস্যা রয়েছে, আমাকে কমেন্ট করে জানান আমি এ নিয়ে সম্পূর্ণ কোন আর্টিকেল লিখবো কিনা!

ইমেজ ক্রেডিট; By Giulio_Fornasar Via Shutterstock | Pixabay.Com

label, , , ,

About the author

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

6 Comments

  1. Anirban November 4, 2017 Reply
  2. Rafi Rafsan November 4, 2017 Reply
  3. Mithu November 4, 2017 Reply
  4. Shadiqul Islam Rupos November 4, 2017 Reply
  5. Salam Ratul November 4, 2017 Reply

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *