টেকহাবস

উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড : না করে থাকলে কেন এখনই করা উচিৎ?

গত ২০১৫ সালের জুলাই মাসে মাইক্রোসফট তাদের নতুন এবং সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০ পাবলিক রিলিজ করে। রিলিজ করার সময় উইন্ডোজ ১০ এর অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। মানে, ঠিক রিলিজ করার সময় উইন্ডোজ ১০ এ তখনো অনেক বাগস এবং ইস্যুস ছিল এবং ওএসটি খুব বেশি স্ট্যাবল এবং অপটিমাইজড ছিলনা।  এছাড়া অনেক প্রোগ্রাম এবং ড্রাইভারসও তখনো উইন্ডোজ ১০ কম্পিটেবল  হয়ে উঠে পারেনি। তাই রিলিজের পরেই শখের বশে উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করে আশানুরূপ ফলাফল না পেয়ে অনেকেই ভেবে নিয়েছেন যে উইন্ডোজ ১০ ভালো না। এই মনে করে, অনেকেই তাদের আগের উইন্ডোজ অর্থাৎ কেউ উইন্ডোজ ৮ এবং কেউ উইন্ডোজ ৭ এ ফিরে গিয়েছেন।

কিন্তু উইন্ডোজ ১০ এর প্রথম সংস্করণ রিলিজ করার পরেই কিছুদিন পরপরই মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ এর জন্য কুমুলেটিভ আপডেটস, সিকিউরিটি প্যাচ ইত্যাদি আপডেটস এবং ইম্প্রুভমেন্টস রিলিজ করতেই থাকে। এরপর ২০১৫ এর নভেম্বরে একটি মেজর আপডেট রিলিজ করার পরে উইন্ডোজ ১০ একেবারেই স্ট্যাবল এবং রিলায়েবল হয়ে যায়। যদিও এখনো উইন্ডোজ ১০ এর কিছু কিছু জায়গায় হালকা বাগস এবং ইস্যুর দেখা পাওয়া যায় কিন্তু সেটা খুব একটা বড় সমস্যার কারণ হয়ে পড়ে না। আর, মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ এর ডেভেলপমেন্ট কখনোই থামাবে না। কারণ, এটি মাইক্রোসফট এর সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম। প্রায় প্রত্যেক ১-২ মাস পরপরই মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ এর জন্য সাধারণ ছোট ছোট ইম্প্রুভমেন্ট আপডেট রিলিজ করবে এবং প্রায় প্রতি ৬ মাস পরপর একটি করে মেজর ওএস আপডেট রিলিজ করবে। এটিই আমার মতে উইন্ডোজ ১০ এর সবথেকে রিলায়েবল উইন্ডোজ ওএস হওয়ার একটি বড় কারণ। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ এর সাপোর্ট কখনোই শেষ করবে না। আপনি উইন্ডোজ ১০ ইউজ করেন মানেই আপনি মাইক্রোসফট এর বর্তমান এবং ভবিষ্যতে রিলিজ করা সব ধরনের সাপোর্ট আপনি পাবেন। আপনার পিসির ওপর ডিপেন্ড করে কিছুটা লিমিটেশন হয়ত থাকবে, কিন্তু সাপোর্ট এবং আপডেটস কখনো একেবারেই শেষ হয়ে যাবেনা।

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে, আপনার পিসি উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড সাপোর্ট করা সত্ত্বেও আপনি যদি এখনো উইন্ডোজ ৮/৮.১ বা উইন্ডোজ ৭ বা উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে ঠিক কি কি কারনে আপনার আজই উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করা উচিৎ। তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড

ফ্রি উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড

এটাই উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করার সবথেকে বড় কারণ। যদিও মাইক্রোসফট বলেছে তারা এখন আর উইন্ডোজ ১০ এর ফ্রি আপগ্রেডের সুযোগ দিচ্ছে না, কিন্তু তবুও আপনি চাইলে এখনো উইন্ডোজ ১০ ফ্রি আপগ্রেড করতে পারবেন। যদিও ফ্রি আপগ্রেড বা পেইড আপগ্রেড এই বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব একটা বড় ব্যাপার নয়। কারণ, আমাদের দেশের অশিকাংশ মানুষই ১০০/২০০ টাকা দিয়ে পাইরেটেড উইন্ডোজ ইন্সটলেশন ডিস্ক কিনে উইন্ডোজ ইন্সটল করে।

তবে, আপনি এখনো চাইলে উইন্ডোজ ১০ লিগ্যালি ফ্রি আপগ্রেড করতে পারবেন মাইক্রোসফট এর থেকেই। যদিও মাইক্রোসফট তাদের ফ্রি আপগ্রেড অফারটি শেষ করে দিয়েছে, তবুও তারা এখনো উইন্ডোজ ১০ এ ফ্রি আপগ্রেড করার একটি সুযোগ রেখেছে Microsoft Assistive Technology এর মাধ্যমে। এই সুযোগটি মুলত তাদের জন্য যারা Microsoft Assistive Technologies ইউজ করে এবং যারা উইন্ডোজ ১০ ফ্রি আপগ্রেড অফার শেষ করার ডেডলাইন মিস করেছে। আপনাকে এই আপগ্রেডটি পেতে হলে এত কিছু জানতে হবে না। শুধুমাত্র এই লিংকে গিয়ে Upgrade Now অপশনে ক্লিক করলেই হবে। তাহলেই আপনি আপগ্রেড করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামস বা টুলস পেয়ে যাবেন। আর হ্যাঁ, এই ফ্রি আপগ্রেড অফারটিও থাকবে ৩১ ডিসেম্বর,২০১৭ পর্যন্ত। এরপরে আর মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ ফ্রি আপগ্রেডের সুযোগ দেবেনা। তাই, আপনি যদি জানেন যে আপনাকে একদিন না একদিন উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করতেই হবে, তবে সেটা এখনই লিগ্যালি করে নেওয়াই ভালো, যেহেতু এখনও আপনি ফ্রি আপগ্রেডের সুযোগ পাবেন।

উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড

আরও বেটার সিকিউরিটি

এটা সম্ভবত আমরা সবাই জানি যে উইন্ডোজ ১০ এর আগের উইন্ডোজ ভার্শনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি আপগ্রেডেড এবং একইসাথে অনেক বেশি সিকিওর। মাইক্রোসফট এর নিজের যে এন্টিভাইরাস রয়েছে, যার নাম উইন্ডোজ ডিফেন্ডার, সেটি উইন্ডোজের অন্যান্য ভার্শনের তুলনায় উইন্ডোজ ১০ এ বেশি ইন্টাগ্রেটেড এবং আগের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। এছাড়া উইন্ডোজ ১০ কিছুদিন পরপর সিকিউরিটি প্যাচ এবং সাধারন ইম্প্রুভমেন্ট আপডেট পাওয়ায় উইন্ডোজ ডিফেন্ডারের ভাইরাস ডেফিনেশন ইঞ্জিন সবসময়ই আপ-টু-ডেট থাকে। যেমন, এবছর ঘটে যাওয়া র‍্যামসমওয়্যার ম্যালওয়্যারের প্রতিরোধ হিসেবে সিকিউরিটি আপডেটও সবার প্রথমে উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীরা পেয়েছিল।

এছাড়া উইন্ডোজ ১০ এর সিকিউরিটি ফিচারস এর উদাহরন হিসেবে বলা যায়, এক্সপ্লয়েট প্রোটেকশন। উইন্ডোজের আগের ভার্শনগুলোতে এক্সপ্লয়েট প্রোটেকশনের জন্য আলাদা প্রোগ্রাম বা টুল ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ত। কিন্তু উইন্ডোজ ১০ এর সর্বশেষ ফল ক্রিয়েটরস আপডেটে এই টুলটিকে উইন্ডোজ ১০ এ বিল্ট ইন করে দেওয়া হয়েছে। তাই উইন্ডোজ ১০ আলাদা কোন প্রোগ্রাম ছাড়াই কোন ম্যালিশিয়াস এক্সপ্লয়েট এবং ম্যালওয়্যার ডিটেক্ট করতে পারে এবং প্রতিরোধও করতে পারে। আর বর্তমানে অধিকাংশ থার্ড পার্টি অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামই বিশেষভাবে উইন্ডোজ ১০ এর জন্য অপটিমাইজ করা হয় যাতে তারা উইন্ডোজ ১০ চালিত ডিভাইসে তাদের বেস্ট পারফরমেন্স দিতে পারে। তাই বেটার সিকিউরিটি কভারেজ পেতে চাইলে অবশ্যই উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করা উচিৎ হবে।

উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড

পূর্ববর্তী উইন্ডোজের সাপোর্ট শেষ

এটিও উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে। যেহেতু মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ এর সর্বশেষ ভার্শন এবং মাইক্রোসফটের মতে এটি তাদের তৈরি সর্বকালের সেরা উইন্ডোজ, তাই তারা আর পূর্ববর্তী উইন্ডোজ ভার্শন যেমন, উইন্ডোজ ৭/৮/৮.১ ইত্যাদিকে আর সাপোর্ট করবেনা। অর্থাৎ, এসব আগের উইন্ডোজ ভার্শনগুলোর জন্য তারা কোনো ধরনের ডেভেলপমেন্ট করবে না। অর্থাৎ, কোন ধরনের মেজর আপডেট রিলিজ করবেনা এবং কোনো নতুন ফিচারসও আনবেনা এই উইন্ডোজ ভার্শনগুলোর জন্য।

নিচে দেওয়া লিস্ট অনুযায়ী, তারা বর্তমানে উইন্ডোজ ৭,৮ এবং এক্সপি এর জন্য এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট দিচ্ছে। অর্থাৎ, তারা শুধুমাত্র সিকিউরিটি প্যাচ রিলিজ করছে এই ভার্শনগুলোর জন্য। আর, নির্ধারিত সময়ের পরে তারা এই সিকিউরিটি প্যাচও আর রিলিজ করবে না। যেমন, উইন্ডোজ এক্সপি এর এক্সটেনডেড সাপোর্ট শেষ হয়ে যাওয়ায়, বর্তমানে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপি এর সবধরনের সাপোর্ট বন্ধ করে দিয়েছে। অর্থাৎ, তারা নির্ধারিত সময়ের পরে উইন্ডোজ ৭ এবং ৮ এর জন্যও সব ধরনের সাপোর্ট বন্ধ করে দেবে। তাই মাইক্রোসফট এর সাপোর্ট কভারেজের মধ্যে থাকতে হলে উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

আরো পড়ুন:  কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কি? | Quantum computing | ভবিষ্যৎ কম্পিউটার

উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড

 আরও ভালো গেমিং পারফরমেন্স

এটিও উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে যদি আপনি পিসিতে গেম খেলেন। যারা পিসিতে গেম খেলতে ভালোবাসেন বা এককথায় যারা পিসি গেমার, তাদের জন্যও অন্যান্য উইন্ডোজ ভার্শনের তুলনায় উইন্ডোজ ১০ বেশি ভালো। কারণ, বর্তমানে যেসব নতুন হাই এন্ড গেমস রিলিজ করা হয় সেগুলোর প্রায় সবই উইন্ডোজ ১০ এর জন্য অপটিমাইজ করা হয় যাতে উইন্ডোজ ১০ চালিত ডিভাইসে গেমগুলো সবথেকে ভালো পারফর্ম করতে পারে। এছাড়াও উইন্ডোজ ১০ এ আছে DirectX12 সাপোর্ট। এটি হচ্ছে এক ধরনের এপিআই যা গেম ডেভেলপারদেরকে গেমের মাধ্যমে পিসির হার্ডওয়্যার অ্যাক্সেস করতে অ্যালাউ করে এবং অভারল গেমটিকে পিসির হার্ডওয়্যার এর জন্য সঠিকভাবে অপটিমাইজ করতে সাহায্য করে। যেসব হাই এন্ড গেম DirectX12 সাপোর্ট করে, সেগুলো উইন্ডোজ ১০ চালিত ডিভাইসে সবথেকে ভালো পারফর্ম করবে।

এছাড়াও উইন্ডোজ ১০ এ এক্সবক্স ইউজারদের জন্যও কিছু অ্যাডভান্টেজ আছে। সেগুলো আমাদের দেশের মানুষের জন্য খুব দরকারি নয়, যেহেতু বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকজনই এক্সবক্স গেমিং কন্সোল ব্যবহার করে। আর এছাড়াও উইন্ডোজ ১০ এর লেটেস্ট আপডেটে আছে ন্যাটিভ গেমিং মোড যেটি আপনার পিসিতে খেলা গেমগুলোকে আরেকটু স্মুথলি চলতে সাহায্য করবে। যার ফলে আপনাকে অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামগুলোর সাথে থাকা গেমিং মোডের ওপর ভরসা করে থাকতে হবেনা। এছাড়াও উইন্ডোজ ১০ এ নতুন যোগ করা হয়েছে Trueplay, যার সাহায্যে অনলাইন গেমসে চিট করা থেকে গেমারদেরকে আটকানোর চেষ্টা করবে।

উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড

উইন্ডোজ ইউনিভারসাল অ্যাপস

আমার মতে উইন্ডোজ ১০ এর সবথেকে বড় ফিচারটি হচ্ছে উইন্ডোজ ইউনিভারসাল অ্যাপ ব্যবহার করার সুবিধা এবং এটি উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করার একটি বড় কারণ। উইন্ডোজ ইউনিভারসাল অ্যাপ (UWP) হচ্ছে মুলত এক ধরনের অ্যাপ যেগুলো শুধুমাত্র উইন্ডোজ ১০ এক্সক্লুসিভ। উইন্ডোজ স্টোর থেকে যেসব অ্যাপ ডাউনলোড করা হয় সেগুলোই হচ্ছে উইন্ডোজ ইউনিভারসাল অ্যাপ। এই অ্যাপগুলো অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোনের অ্যাপগুলোর মতই। শুধুমাত্র পার্থক্য হচ্ছে, এই অ্যাপগুলো উইন্ডোজ ১০ এর জন্য তৈরি এবং উইন্ডোজ ১০ স্টোরেই পাওয়া যাবে। এই অ্যাপগুলো Win32 প্রোগ্রামের থেকে ভালো এমনটা নয়, তবে এই অ্যাপগুলোর ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, ফিচারস সাধারণ Win32 অ্যাপের থেকে অনেক বেটার। এছাড়া এই অ্যাপগুলো অনেক লাইটওয়েট।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইউনিভারসাল অ্যাপের কারনে, উইন্ডোজ ১০ এ অনেক স্মার্টফোন অ্যাপস এবং গেমস ইন্সটল করাও সম্ভব হয় যেগুলো অন্যান্য উইন্ডোজ ভার্শনে সম্ভব নয়। স্মার্টফোন অ্যাপস ইন্সটল করা যায় বলতে সরাসরি APK ফাইল ইন্সটল করা যাবে তা নয়, তবে অনেক মেজর স্মার্টফোন গেম ডেভেলপাররা তাদের গেমস স্মার্টফোনের পাশাপাশি ইউনিভারসাল উইন্ডোজ প্লাটফর্মের জন্যও ডেভেলপ করে ( যেমনঃ Asphalt 8, Modern Combat 5 ইত্যাদি)। এছাড়া ইউনিভারসাল অ্যাপ ব্যবহার করার ফলে উইন্ডোজ ১০ এ অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাপ, টুইটার অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম অ্যাপও ব্যবহার করা যায় যেগুলোর অফিশিয়াল অ্যাপ অন্যান্য উইন্ডোজ ভার্শনে ব্যবহার করা যায়না। এছাড়া উইন্ডোজ ইউনিভারসাল অ্যাপগুলো যেকোনো উইন্ডোজ ১০ চালিত ডিভাইসে চলতে পারে। তার জন্য অ্যাপগুলোকে প্রত্যেকটি ডিভাইসের জন্য নতুন করে ডেভেলপ করার প্রয়োজন পড়েনা। উইন্ডোজ ১০ স্টোরে আপনি এমন হাজার হাজার ইউনিভারসাল অ্যাপ পাবেন, যেটি উইন্ডোজ ১০ এর একটি বাড়তি ফিচার বলা যায়।

উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেডআরও বেশি ফিচারস

এটা এখন আর বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, উইন্ডোজ ১০ এ উইন্ডোজ ৭ বা ৮ বা এক্সপি এর তুলনায় অনেক বেশি ফিচারস আছে। উইন্ডোজ ১০ এ আগের ভার্শনগুলোর তুলনায় কি কি এক্সট্রা ফিচারস আছে সেসব লিখে শেষ করা যাবেনা। উইন্ডোজ ১০ এর একটি অভারল অনেক বেশি স্মার্ট এবং ইম্প্রুভড ইউআই এবং স্মুথ এনিমেশনস তো থাকছেই। এছাড়াও উইন্ডোজ ১০ এ আছে মাইক্রোসফট এর তৈরি ইন্টেলিহজেন্ট ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, কর্টানা। ইউনিভারসাল অ্যাপস ব্যবহার করার সুবিধা তো থাকছেই, এর সাথে থাকছে আপনার অ্যান্ড্রয়েড/আইওএস বা উইন্ডোজ স্মার্টফোনের সাথে ডিপ ইন্টাগ্রেশন। উইন্ডোজ ১০ এর লেটেস্ট আপডেটে আপনি আপনার ফোনের সাথে আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট লিংক করে আপনার ফোনের সকল নোটিফিকেশন পিসিতে দেখতে পারবেন এবং চাইলে ফোনে আসা মেসেজের রিপ্লাই পিসি থেকেও দিতে পারবেন।

এছাড়া মাইক্রোসফট এর তৈরি স্পেশাল এজ ব্রাউজার, দরকারি ফিচারস যেমন- মাল্টিপল ডেক্সটপ, বিল্ট ইন ডেটা সেভার, গেমিং মোড, স্প্লিট স্ক্রিন, ফাইন্ড মাই ডিভাইস, ইন্টাগ্রেটেড স্কাইপ, পৃথিবীর বেস্ট ন্যাটিভ ইমেইল অ্যাপ, ইম্প্রুভড স্টার্ট মেনু এবং আরো অনেক অনেক ফিচারস রয়েছে যেগুলো বলে শেষ করা যাবেনা। এইসব ফিচারস এবং ওএস এক্সটেনশনস মিলে সত্যিই একটি পরিপূর্ণ ওএস এক্সপেরিয়েন্স তৈরি করে। এছাড়া, আপনার পিসি যদি মোটামুটি ভালো কনফিগের হয়, তাহলে আপনি উইন্ডোজ ১০ এর অভারল পারফর্মেন্স উইন্ডোজ এর আগের ভার্শনগুলোড় তুলনায় অনেক ভালো পাবেন। এবং এখন প্রায় সব ব্রাউজার প্রোগ্রাম, অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম এবং প্রায় অন্যান্য অধিকাংশ প্রোগ্রামই উইন্ডোজ ১০ এর জন্য অপটিমাইজড। তাই, এসব অ্যাপসের পারফর্মেন্সও আপনি উইন্ডোজ ১০ এ সবথেকে ভালো পাবেন।

উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড

তো, আমার মতে এগুলোই ছিল কয়েকটি বিষয় যেগুলো বিবেচনা করে আপনার উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করা উচিৎ। আবারও বলছি, আপনি এখনো চাইলে উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড ফ্রি নিতে পারবেন যদিও মাইক্রোসফট বলেছে তাদের ফ্রি আপগ্রেড অফার শেষ। কিভাবে পাবেন সেটা আর্টিকেলের প্রথমেই বলেছি। আর হ্যাঁ, আপনি যদি এখনো উইন্ডোজ ১০ লিগ্যালি ফ্রি আপগ্রেড করতে চান তাহলে শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর,২০১৭।


আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। ভালো থাকবেন।

Image Credit : By rvlsoft Via ShutterstockMicrosoft

সিয়াম একান্ত

আমি সিয়াম। অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ এবং প্রযুক্তিকে ভালোবাসি। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি প্রায় অধিকাংশ সময়ই প্রযুক্তি নিয়ে সময় কাটাই। আশা করি এখানে আপনাদেরকে প্রযুক্তি বিষয়ক ভালো কিছু আর্টিকেল উপহার দিতে পারব।

23 comments

  • ভাইয়া, আমি যদি ফ্রি আপডেট করি, তাহলে কি পরে এক্টিভেশন নিয়ে কোনো ঝামেলা হতে পারে? আমি একবার আপডেট করেছিলাম ২০১৬ সালে, তখন এক্টিভেশন কি চাইত। এখনো কি এমন সমস্যা হতে পারে?
    আর্টিকেলটা অনেক সুন্দর হয়েছে, ধন্যবাদ ভাইয়া।

    • না। আপনি যদি মাইক্রোসফট এর থেকে লিগ্যাল ওয়ে তে উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করেন তাহলে আপনাকে অ্যাক্টিভেশন নিয়ে কোনো ঝামেলায় পড়তে হবেনা আমি যতদূর জানি। উইন্ডোজ ইনস্টল করার পরে নেট কানেকশন দিলেই উইন্ডোজ অটো এক্টিভেট হয়ে যাবে।

  • apnar ei porjonto eti best article via. onek high quality hoyece. onek janlam. ami khub ekta pc use kori na. somoy hoy na. windows 8.1 install diye rekheci. windows 10 debo. but full screen start menu pabo to?

    • সাধারণভাবে আপনি ফুল স্ক্রিন স্টার্ট মেনু পাবেন না। সাধারণভাবে আপনি উইন্ডোজ ১০ এর ডিফল্ট যে স্টার্ট মেনু আছে সেটিই পাবেন। কিন্তু আপনি চাইলে সেটিংস থেকে ফুল স্ক্রিন স্টার্ট মেনু করে নিতে পারবেন। মানে, ফুল স্ক্রিন স্টার্ট মেনুর অপশন আপনি সেটিংসে পাবেন। সেখান থেকে অন করে নিলেই হবে। ধন্যবাদ। 🙂

  • সিয়াম রউফ একান্ত ভাইয়া খুবই ভালো লাগলো। উপকারী পোস্ট ছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া। ভালো থাকবেন।

    • ফ্রি বলতে ডাউনলোড এবং অ্যাক্টিভেট সবই ফ্রি। কিন্তু যদি আপনি আপনার পিসিতে আগে উইন্ডোজ ১০ ডাউনলোড করে অবৈধভাবে কোন অ্যাক্টিভেটর ইউজ করে উইন্ডোজ অ্যাক্টিভেট করে থাকেন তাহলে উইন্ডোজ অ্যাক্টিভেশন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারেন।

  • কোয়ালিটি কন্টেন্ট । অনেক সুন্দর করে টাইটেল এবং কন্টেন্ট মিলিয়ে দিয়েসেন। অনেক বড় ইংরেজি সাইট এত ভালো কন্টেন্ট জেনারেট করতে পারে না যেটা এখনএ কভার করা হয়। আমি মুগ্ধ।

    • না। আপনি যদি ৩১ ডিসেম্বর এর আগে আপগ্রেড করেন, তাহলে আপনার কোন অ্যাক্টিভেটর দরকার হবেনা। পিসিতে ইন্টারনেট কানেকশন দিলে কিছুক্ষনের মধ্যে এমনিতেই অ্যাক্টিভেট হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আপনি আপনার পিসিতে আগে উইন্ডোজ ১০ ডাউনলোড করে অবৈধভাবে কোন অ্যাক্টিভেটর ইউজ করে উইন্ডোজ অ্যাক্টিভেট করে থাকেন, তাহলে উইন্ডোজ অ্যাক্টিভেশন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারেন।

        • আমার জানামতে, আপনি যদি আগে উইন্ডোজ ১০ অ্যাক্টিভেট করতে ক্র্যাক বা কোনো অ্যাক্টিভেট র ব্যাবহার করে থাকেন, তাহলে আপনার উইন্ডোজ লিগ্যালি অ্যাক্টিভেট করতে ঝামেলা হতে পারে। যদিও আমি এ বিষয়ে ১০০% নিশ্চিত নই।

  • পুরাতন মডেলে লো কনফিগারেশন ওয়ালা ল্যাপটপে win10 ব্যবহার কি সুবিধার হবে?

    বর্তমানে win8.1 ব্যবহার করছি, win10 ইনস্টল দিয়ে এক্টিভেট না করলে কি ফুল সাপোর্ট পাবো?

টেক নিউজ!

সবার আগে সকল সর্বশেষ প্রকাশিত টেক নিউজ গুলো চেক করুণ! স্মার্টফোন/গ্যাজেট রিলিজ, ইন্টারনেট নিউজ, টেক দুনিয়ার সবকিছুর সাথে থাকুন সর্বদা আপডেটেড!

সামাজিক মাধ্যম

সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!