হ্যাঁ, অনলাইনে আপনি কি করছেন, গুগল সবকিছুই ট্র্যাক করছে! — কিভাবে গোপন থাকবেন?


অনলাইনে আপনি কি করছেন, গুগল সবকিছুই ট্র্যাক করছে!

আপনার ভালো লাগুক বা নাই বা লাগুক—কিন্তু গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক, বিং আপনাকে সর্বদা ট্র্যাক করেই চলেছে। তাদের সাইটে গিয়ে একটা “ডট” লিখে সার্চ করলেও তারা সেটাকে রেকর্ড করে রাখে। আপনি আলাদা যেকোনো ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন আর ভাববেন, “আর গুগল ট্র্যাক করতে পারবে না” —আপনি সম্পূর্ণই ভুল। আপনি যে আলাদা সাইট গুলো ভিজিট করছেন, তারাও গুগলের অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

তাছাড়া আপনার প্রত্যেকটি ওয়েব সার্চ, ভিডিও সার্চ, ইমেজ সার্চ, আপনি কোন সাইটটি ওপেন করলেন, আপনি কোথায় কোথায় বেড়াতে যাচ্ছেন, আপনার সব সময়ের লোকেশন, আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টের সাথে যা কিছু করছেন সবকিছুকেই তারা ট্র্যাক করছে। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না তো? ঠিক আছে, আপনি নিজেই আপনার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি লিখে গুগল সার্চ করে দেখুন, দেখবেন গুগল আপনার চেয়েও আপনাকে বেশি মনে রেখেছে। এই আর্টিকেল থেকে জানবো গুগল আসলে আপনার ডিজিটাল লাইফের কি কি ট্র্যাক করছে এবং গুগলের নির্ঘুম চোখ থেকে আপনার পার্সোনাল ডিজিটাল লাইফকে কিভাবে রক্ষা করবেন!

প্রত্যেকটি ইউটিউব সার্চ রেকর্ড করে রাখা হয়

আপনি অবশ্যই জানেন, ইউটিউব হচ্ছে গুগলের সম্পত্তি। তো গুগল যদি আপনাকে ট্র্যাক করে, তাহলে ইউটিউব কি করবে? ইউটিউব গুগলের আরেকটি ঘোঁচর বলতে পারেন। আপনি ইউটিউবে কোন ভিডিও দেখেছেন, কতক্ষণ দেখেছেন, কি ভিডিওর জন্য সার্চ করেছেন সবকিছু ইউটিউব তার ডাটাবেজে সেভ করে রেখেছে। আপনার ভিডিও দেখার অভ্যাসের উপর ভিত্তি করেই আপনাকে রেকোমেন্ডেড ভিডিও শো করে। অনেকে বলে, “ভাই ইউটিউব অনেক নোংরা সাইট, শুধু হোম পেজে খারাপ খারাপ ভিডিও এনে রাখে”। ভাই নোংরা আপনি, ইউটিউব নয়, আপনি যেটা আগে সার্চ করেছিলেন, যে টাইপের ভিডিও সচরাচর দেখেন, ইউটিউব হোম পেজে সেগুলোই আপনাকে এনে দেয়।

অনেকে বলবেন, “আরে এতো ভালো কথা” আমি যদি ইউটিউব টেক ভিডিও দেখি, তো ইউটিউব আমাকে পরবর্তীতে আরো অসাধারণ টেক ভিডিও গুলো সাজেস্ট করবে! কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, কোন কারণে আপনার উপর পুলিশ বা কোন গোয়েন্দা দল সন্দেহ করলো। তারা আপনার ইউটিউব একটিভিটি গুলোকে তদন্ত করে দেখতে পারে, ধরুন আপনি সখের বসে এমন কোন ভিডিও দেখেছিলেন যেটাকে এক নজরে দেখলে সন্দেহজনক মনে হতে পারে, তো আপনি তো গেলেন। জানি, অনেকে বলবেন, “আরে ভাই আমার অ্যাকাউন্ট পুলিশ কি করবে? আমি ক্রিমিন্যাল নাকি?” —ভাই আপনি অবশ্যই ক্রিমিন্যাল নয়, কিন্তু যদি কোন ভাবে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, আর হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্টকে অপব্যবহার করে, তাহলে কি হবে একটু ভেবে দেখুন।

প্রত্যেকটি গুগল সার্চ রেকর্ড করে রাখা হয়!

এটা ভেবে একেবারেই চমকে যাওয়ার মতো কিছু নয়, গুগল প্রত্যেকটি সার্চ করা কী-ওয়ার্ড গুলোকে স্টোর করে রাখে। আর এটা শুধু আপনার ক্ষেত্রে নয়, এই পৃথিবীর প্রত্যেকটি ইউজারের ক্ষেত্রেই গুগল এই কাজটি করে থাকে। গুগল ডাটা সেন্টারের হাজার হাজার ড্রাইভ শুধু আপনার আমার পার্সোনাল ডাটা গুলোকে স্টোর করে রেখেছে। শুধু টেক্সট সার্চ নয় ভাই, আপনি কি ভয়েস সার্চ করছেন সেটাও রয়েছে এদের ডাটাবেজে।

রেখেছে তো রেখেছে, এতে আপনার কি? আপনার অনেক কিছু, আপনার সার্চ হাবিটের উপর আপনাকে ব্ল্যাক মেইল করা যেতে পারে। আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে, হ্যাকার সহজেই আপনার সব সার্চ রেজাল্ট পেয়ে যাবে, মানে সেই তথ্য গুলো পেয়ে যাবে যেগুলো আপনি ইন্টারনেটে প্রত্যেকটি সিঙ্গেল টাইম করেছেন।

গুগল ফিজিক্যাল লোকেশন রেকর্ড করে রাখে!

শুধু ভার্চুয়াল ওয়ার্ডে কোথায় যাচ্ছেন কি করছেন সেটা নয়, আপনার ব্যস্তব লাইফে কোথায় যাচ্ছেন, কোন জায়গায় গেলেন, কোন রেস্টুরেন্টে গেলেন, কোন হোটেলে থাকলেন, গুগল সবকিছুই জানে। যদি আপনি ফোনের লোকেশন সার্ভিসটি অফ করে না রাখেন, তো মনে রাখবেন, গুগলও আপনার পিছে পিছে বেড়াতে চলে যায়। এমনকি গুগল আপনার ডেক্সটপ কম্পিউটারেরও ফিজিক্যাল লোকেশন ট্র্যাক করে। যারা তাদের ফিজিক্যাল লোকেশনকে হাইড রাখতে চান, তাদের জন্য এটা অনেক বড় একটি রিস্ক।

এখানেও আপনার জন্য রিস্ক রয়েছে। কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ক্রাইম করে তো আপনার লোকেশন হিস্ট্রি থেকে আপনাকে সহজেই খুঁজে বেড় করা সম্ভব হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন, “ভাই, আপনার উদ্ভট সব চিন্তা” —ভাই, এই ডিজিটাল লাইফে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। যেহেতু কোন সিস্টেমই ১০০% হ্যাক প্রুফ নয়, তো আপনার সামান্য অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া কয় মিনিটের ব্যাপার?

গুগল সকল ডাটা কাজে লাগিয়ে কোটি টাকা ইনকাম করছে!

আপনার সকল ডাটা, আপনার যেকোনো সার্চ রেজাল্ট, আপনার ডিজিটাল লাইফের সবকিছু সংরক্ষিত করার পেছনে গুগলের এটিই সবচাইতে বড় রহস্য; কোটি টাকা ইনকাম করা। আপনার ডাটার উপর ভিত্তি করে আপনাকে অ্যাড শো করানো হয়। আপনি এক্ষুনি কোন জুতার সাইটে যান, আর কোন জুতা না কিনেই সাইটটি কেটে দিন। দেখবেন ঐ জুতার অ্যাড আপনার পিছু লেগে গেছে। আপনি অন্য সাইটে (যে সাইটে গুগল অ্যাড রয়েছে) গেলেও জুতার অ্যাড আসবে, আপনি ইউটিউবে গেলেও জুতার অ্যাড আসবে। আর ঐ অ্যাডভার্টাইজারকে গুগল বেশি বেশি চার্জ করবে, কেনোনা আপনিই সেই টার্গেটেড ব্যক্তি যাকে কোম্পানি অ্যাড দেখাতে চায়। ডাটা মাইনিং বা যেকোনো কোম্পানি কিভাবে আপনার যেকোনো ডিজিটাল ডাটা স্টোর করে রাখে, বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

গুগল ট্র্যাকিং থেকে কিভাবে বাঁচবেন?

প্রথমেই বলে রাখি, গুগলের মতো এতো বিশাল ঘোঁচর থেকে পুরোপুরি নিস্তার পাওয়া সম্ভব নয়। তবে কিছু স্টেপস গ্রহন করার মাধ্যমে, আপনি নিজের ট্র্যাকিং এর মাত্রাকে কমিয়ে ফেলতে পারেন। যাই হোক, কাজের কথায় আসা যাক; আপনি নিশ্চয় জানেন, ২০১৫ থেকে গুগলের একটি নতুন ইউআরএল রয়েছে, https://myaccount.google.com —এখানে আপনি গুগলের সকল সার্ভিসের কন্ট্রোল প্যানেল পেয়ে যাবেন। এবার আপনার অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুণ, লগইন করার পরে, এই https://myaccount.google.com/activitycontrols লিঙ্ক এ যান, ব্যাস এখানে Web & App Activity, Location History, Device Information, Voice & Audio Activity, YouTube Search History, YouTube Watch History অপশন গুলো দেখতে পাবেন। অপশন গুলোর পাশে একটি অফ অন সুইচ রয়েছে, যেখানে অফ করে দিলে আপনাকে ট্র্যাক করা পজ করা হবে।

কিন্তু একটি বিষয় মাথায় রাখবেন, ট্র্যাকিং পজ করে দেওয়া মানে কিন্তু এই নয়, গুগল আর আপনাকে ট্র্যাকই করবে না। যেকোনো সময় আবার গুগল যেকোনো ট্র্যাকিং করে ফেলতে পারে, আপনাকে নোটিফিকেশন দেওয়ারও প্রয়োজন মনে করবেনা।

ভিপিএন ব্যবহার করুণ

গুগল আর যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন এর ট্র্যাকিং থেকে বাঁচতে আর আপনার পার্সোনাল ডাটা গুলোকে প্রাইভেট রাখতে ভিপিএন এর কোন বিকল্প হয় না। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা এখন অনেক সস্তা ব্যাপার। আপনি ফ্রীতেও ভিপিএন পেয়ে যাবেন, কিন্তু সেটার আরেক খারাপ দিক রয়েছে।

ফ্রী ভিপিএন

আমি সাজেস্ট করবো, পেইড ভিপিএন ব্যবহার করতে এবং ভিপিএন ব্যবহার করে সবসময় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে। ইন্টারনেটে লুকিয়ে থাকার পাশাপাশি ভিপিএন ব্যবহার করার আরো বহু গুন রয়েছে। ভিপিএন আপনাকে হ্যাক অ্যাটাক থেকেও বাঁচিয়ে দিতে পারে, তো অবশ্যই ব্যবহার করা উচিৎ। এই আর্টিকেল থেকে জানুন — স্মার্ট ডিএনএস কি? এটি কি ভিপিএন থেকে বেটার? ভিপিএন Vs স্মার্ট ডিএনএস!


সেটিং থেকে ট্র্যাকিং পজ করে আপনাকে ট্র্যাক প্রুফ বানানো যাবে, এটার কিন্তু কোন নিশ্চয়তা নেই। তবে হ্যাঁ, এতে ট্র্যাকিং কিছু হলেও কমানো সম্ভব। আর ভিপিএন ব্যবহার করার ফলে, হতে পারে আপনার অনলাইন যাত্রাকে আরো সিকিউর আর প্রাইভেট করে তোলা সম্ভব হবে, যদি বর্তমানে টাকা না থাকে, এই লিস্ট থেকে ১০টি সেরা ফ্রী ভিপিএন সার্ভিস/সফটওয়্যার গুলো দেখে নিতে পারেন। আপনার যেকোনো প্রশ্ন বা মতামতে আমাকে নিচে কমেন্ট করতে পারেন, সাথে আপনার যেকোনো প্রাইভেসি টিপসও কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।

ইমেজ ক্রেডিটঃ By Elnur Via Shutterstock

label, , ,

About the author

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

8 Comments

  1. Byzid January 7, 2018 Reply
  2. sahajahan alam bijoy January 7, 2018 Reply
  3. Salam Ratul January 7, 2018 Reply
  4. Golam sarowaar January 7, 2018 Reply
  5. অলিউর January 9, 2018 Reply

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *