ইন্টারনেটের লুকায়িত অধ্যায় | ডীপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব


ডীপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব

বন্ধুরা, ইন্টারনেট তো আপনারা সবাই ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু আপনি জানেন কি, ইন্টারনেটে এমন এক অধ্যায় আছে যা হয়তো আপনি এখনো ব্যবহার করেননি। আজকের আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন আর আমি আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবো ইন্টারনেটের সেই লুকায়িত অধ্যায় ডীপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব এর সাথে।

আরো জানুন

সার্ফেস ওয়েব (Surface Web)

সার্ফেস ওয়েব

সম্পূর্ণ ইন্টারনেটকে মোট তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নাম্বার ওয়ান সার্ফেস ওয়েব (Surface Web), নাম্বার টু ডীপ ওয়েব (Deep Web), এবং নাম্বার থ্রি ডার্ক ওয়েব (Dark Web)। তো প্রথমে কথা বলে নেয় সার্ফেস ওয়েব সম্পর্কে। দেখুন আপনারা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তারা নিশ্চয় সার্ফেস ওয়েব সম্পর্কে জানেন। যদি না জেনে থাকেন তো আমি বলে দিচ্ছি। দেখুন বন্ধুরা সার্ফেস ওয়েব হলো ঐ ওয়েব যেটি দুনিয়া জুড়ে প্রত্যেকটি সাধারন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ব্যবহার করে থাকে। যেটি আপনি ব্যবহার করেন, যেটি আমি ব্যবহার করি এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করেত থাকবো সেটিই হলো সার্ফেস ওয়েব।

এমনকি আপনি যে আমার এই পোস্টটি পড়ছেন এটিও সার্ফেস ওয়েব এর একটি অংশ। তো সার্ফেস ওয়েব এমন ইন্টারনেট যেটি দুনিয়া জুড়ে যেকোনো ইউজার যেকোনো সময় কোন স্পেশাল অনুমতি ছাড়া অ্যাক্সেস করতে পারে। এবং সার্ফেস ওয়েবের প্রায় সকল তথ্য আপনি গুগল সার্চ করে পেয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ যেসকল তথ্য গুগল সার্চ থেকে পাওয়া যায় বা আপনি যেকোনো লিঙ্ক ক্লিক করে যে ওয়েব সাইট গুলো খুলতে পারেন তারা প্রত্যেকে এই সার্ফেস ওয়েবের এক একটি অংশ। এমনি ভাবে আপনার প্রতিদিনের নিউজ আপডেট সাইট গুলো, প্রযুক্তি সাইট গুলো, গান ডাউনলোড সাইট গুলো ইত্যাদি সবাই সার্ফেস ওয়েবের অংশ। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, এই সার্ফেস ওয়েব সম্পূর্ণ ইন্টারনেটের মাত্র ৫% জুড়ে রয়েছে! আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই বন্ধুরা এতো কেবল জানার শুরু।

ডীপ ওয়েব (Deep Web)

ডীপ ওয়েব

একটি গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে, সম্পূর্ণ ইন্টারনেটের প্রায় ৯৫% অংশ হলো এই ডীপ ওয়েব। এখন এই ডীপ ওয়েবে কি কি সংরক্ষিত রয়েছে সে বিষয়ে প্রথমে জেনে নেয়। দেখুন আপনার যতো অনলাইন স্টোরেজ রয়েছে যেখানে আপনার সকল ডাটা স্টোর করা রয়েছে। যেমন কথা বলি গুগল ড্রাইভ নিয়ে বা ড্রপ বক্স নিয়ে। আবার বড় বড় ইউনিভার্সিটিতে যতো গুলো গবেষণা তথ্য বা গোপন তথ্য স্টোর করা রয়েছে বা ব্যাংক এর যতো গুলো তথ্য বা ডাটাবেজ রয়েছে অথবা সরকারের যে গোপন প্রজেক্ট গুলো সংরক্ষিত রয়েছে তো এই সবই হলো ডীপ ওয়েবের অংশ। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় বলতে যে তথ্য গুলো আপনি গুগল সার্চ করে কখনোও খুঁজে পাবেন না সেটিই হলো ডীপ ওয়েব।

ডীপ ওয়েব থেকে আপনি যদি কোন তথ্য অ্যাক্সেস করতে চান তবে আপনার প্রয়োজন পড়তে পারে একটি বিশেষ ওয়েব অ্যাড্রেস। একটি বিশেষ সাইট একটি বিশেষ সার্ভারের জন্য একটি বিশেষ ওয়েব অ্যাড্রেস। এবং ওয়েব অ্যাড্রেসের সাথে আপনার প্রয়োজন একটি বিশেষ অনুমতি, যে আপনি ঐ ওয়েবসাইট টির উমুক তথ্য অ্যাক্সেস করার উপযোগী। অনুমতি গ্রহন করার জন্য আপনাকে হয়তো কোন লগইন আইডি বা পাসওয়ার্ড প্রবেশ করাতে হতে পারে অথবা সেটি যেকোনো ধরনের অথন্টিকেশন হতে পারে। কিন্তু আপনি বিশেষ ওয়েব অ্যাড্রেস ছাড়া কখনই ডীপ ওয়েবে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেননা ডীপ ওয়েবের কোন তথ্যই গুগল বা যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করা থাকে না। তো আপনি যতই সার্চ করতে থাকুন না কেন, আমার গুগল ড্রাইভে কি সেভ করা আছে তা আপনি কখনই খুঁজে এবং অ্যাক্সেস করতে পারবেন না।

আপনি তখনই সেই ফাইল গুলো অ্যাক্সেস করতে পারবেন যখন আমি আপনাকে ঐ ফাইল গুলোর বিশেষ লিঙ্ক আপনার সাথে শেয়ার করবো। তো আশা করছি ডীপ ওয়েব সম্পর্কে খুব ভালোভাবে আপনি বুঝে গেছেন। এবং নিশ্চয় ডীপ ওয়েবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও বুঝতে পারছেন। কেনোনা অনেক সময় আমাদের ইন্টারনেটে ফাইল তো রাখতে হয়, কিন্তু আমরা চাই সেটা শুধু নির্দিষ্ট কিছু লোকের জন্যই প্রাপ্য হোক। উদাহরণ স্বরূপ যদি কোন কোম্পানির কোন ডাটাবেজ হয় তবে সেই কোম্পানিটি অবশ্যই চাইবে যে সেই ডাটা গুলো শুধু মাত্র তার নির্বাচিত ইউজাররা অ্যাক্সেস করুক। তাছাড়া গোপন তথ্য ইন্টারনেট সবার জন্য প্রাপ্য রাখা টাও অনেক ঝুঁকির ব্যাপার।

ডার্ক ওয়েব (Dark Web)

ডার্ক ওয়েব

তো এতক্ষণে আপনি অবশ্যই ডীপ ওয়েব সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে জেনে গেছেন। কিন্তু ইন্টারনেটের আরো একটি অধ্যায় আছে যা সবার কাছে লুকায়িত হয়ে থাকে, তার নাম হলো ডার্ক ওয়েব বা ইন্টারনেটের কলঙ্কিত অংশ। দেখুন ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে শুধু এই পোস্ট থেকে জেনে রাখুন। কিন্তু আমি শুরু করার আগে আপনাকে সতর্ক করে দিতে চাই যে এই ডার্ক ওয়েব সম্পূর্ণ অবৈধ ইন্টারনেট। ডার্ক ওয়েব কখনই ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন না।

এবার চলুন ডার্ক ওয়েব নিয়ে সামনে এগোনো যাক। বন্ধুরা ডার্ক ওয়েবে মনে করুন যা ইচ্ছা তাই করা সম্ভব। ডার্ক ওয়েবে ড্রাগস ডিলিং, আর্মস ডিলিং সহ এমন এমন অসংখ্য অবৈধ কাজ সম্পূর্ণ করা হয় যার সম্পর্কে আজ এই পোস্টে খুলে বলা সম্ভব নয়। ডার্ক ওয়েব ইন্টারনেটের সেই কালো অধ্যায় যেখানে যেকোনো কিছু যেকোনো সময় করা সম্ভব। ডার্ক ওয়েবও কিন্তু সাধারন গুগল সার্চ করে কখনো খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।

যদি আপনি ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করতে চান তবে আপনার প্রয়োজন পড়বে একটি বিশেষ ইন্টারনেট ব্রাউজার। যা ইন্টারনেটে টর (TOR) ব্রাউজার হিসেবে পরিচিত। এবং আপনি যদি এই টর ব্রাউজার ব্যবহার করেন তবেই ডার্ক ওয়েবে যেকোনো কিছু অ্যাক্সেস করতে পারবেন। কিন্তু আবার বলে রাখছি এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। সকল প্রকারের ব্লাক মার্কেট অবস্থান করে ডার্ক ওয়েবে। টর ব্রাউজার আপনার অ্যাড্রেসকে অনেক অনেক লোকেশনে বাউঞ্জ করিয়ে তবেই কাঙ্ক্ষিত ওয়েব অ্যাড্রেসে পৌঁছে দেয়। আপনার গন্তব্বে যে ইউজার থাকে সেই শুধু আপনাকে ট্রেস করতে পারে। তাছাড়া এমনি যে কেউ আপনাকে ট্রেস করতে পারবে না। টর প্রথম প্রথম আবিষ্কার হয়েছিলো ইউএস নেভির জন্য। কিন্তু এটি বর্তমানে একদম ওপেন একটি বিষয় হয়ে গিয়েছে। গোটা ইন্টারনেট জগতে জালের মতো ছড়িয়ে আছে এই ডার্ক ওয়েব। এবং একে নিয়ন্ত্রন করা অনেক মুশকিল ব্যাপার। সরকার ডার্ক ওয়েব ধিরেধিরে বন্ধ করছে। কিন্তু এখনো ডার্ক ওয়েবের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে আমি বলবো না যে একদম টর ব্রাউজারই ব্যবহার করবেন না। টর ব্রাউজার আপনি ভিপিএন হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এবং এটির মাধ্যমে সার্ফেস ওয়েব ও ডীপ ওয়েব অ্যাক্সেস করতে পারেন। কিন্তু ভুলেও ডার্ক ওয়েবের দিকে পা বাড়াবেন না।

আরো জানুন

শেষ কথা

বন্ধুরা এটি শুধু মাত্র একটি ইনফরমেশনাল পোস্ট ছিল যেখানে আমি আলোচনা করেছি ডীপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে। আমি চাই এই পোস্টটি আপনি শুধু জানার জন্য পড়ুন। কখনোও ডার্ক ওয়েব ভিসিট করবেন না, এটি আমার একান্ত অনুরোধ। যাই হোক, আশা করছি পোস্ট টি আপনার খুব খুব ভালো লেগেছে। তাই অবশ্যই পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করুন। এবং আপনার যেকোনো প্রশ্নে এবং মতামত জানাতে অবশ্যই কমেন্ট করুন। খুব সিগ্রি দেখা হবে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে।

label, , , , ,

About the author

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

24 Comments

  1. Anirban Dutta June 17, 2016 Reply
  2. সিয়াম June 17, 2016 Reply
  3. pappu June 17, 2016 Reply
  4. Raju June 17, 2016 Reply
  5. Shimul Sorkar June 17, 2016 Reply
  6. Muhin June 17, 2016 Reply
  7. প্রদিপ মন্ডল June 17, 2016 Reply
  8. অর্নব June 17, 2016 Reply
  9. pappu June 18, 2016 Reply
  10. sam June 22, 2016 Reply
  11. জাহিদ February 23, 2017 Reply
  12. Monalisa February 25, 2017 Reply
  13. কৌশিক June 9, 2017 Reply
  14. Md abdul jalil November 2, 2017 Reply

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *